
দিনের বেলা ক্লান্ত বোধ করার জন্য অনেকেই নিজেকে দোষারোপ করেন।
তারা নিজেদের অলস মনে করে।
তারা মনে করে তাদের শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।
কিন্তু কখনও কখনও আসল কারণটা আরও সহজ: আপনার হয়তো ঘুমের অভাব হচ্ছে।
ঘুম শুধু “বিশ্রাম” নয়। এটি একটি অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়া যা মস্তিষ্ক, হরমোনকে প্রভাবিত করে।
বিপাক ক্রিয়া এবং সার্বিক স্বাস্থ্য।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কী হয়?

বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য প্রতি রাতে প্রায় ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়।
যখন ঘুমের পরিমাণ ক্রমাগত কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক ও শরীর এমনভাবে তার মোকাবিলা করার চেষ্টা শুরু করে যে
এটি সারাদিন আপনার অনুভূতি এবং কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
আপনি লক্ষ্য করতে পারেন:
● মনোযোগ দিতে অসুবিধা
● ধীর চিন্তা
● দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
● প্রেরণা হ্রাস
বাইরে থেকে দেখলে এটাকে অলসতা মনে হতে পারে। আসলে, মস্তিষ্ক কেবল চাপের মধ্যে কাজ করছে।
ঘুমের ঘাটতি।
ঘুম আপনার হরমোনকেও প্রভাবিত করে

ক্ষুধা ও বিপাক ক্রিয়া সম্পর্কিত হরমোন নিয়ন্ত্রণে ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে নিম্নলিখিত হরমোনগুলিতে পরিবর্তন আসে:
● গ্রেলিন, যা ক্ষুধা বাড়ায়
● লেপটিন, যা পেট ভরা থাকার সংকেত দেয়
এই ভারসাম্যহীনতার ফলে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে।
সময়ের সাথে সাথে, দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার সাথে সম্পর্কিত বলে দেখা গেছে।
ঝামেলা
মস্তিষ্কও তা অনুভব করে।
ঘুমের অভাব প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে প্রভাবিত করে, যা মস্তিষ্কের মনোযোগের জন্য দায়ী অংশ।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ।
মস্তিষ্কের এই অংশ ক্লান্ত হয়ে পড়লে, এমনকি সাধারণ কাজ শুরু করা বা শেষ করাও কঠিন বলে মনে হতে পারে।
“আমি কিছুতেই কাজটা করতে পারছি না”—এই পরিচিত অনুভূতিটা হয়তো চরিত্রের কোনো ত্রুটি নয়—বরং হতে পারে
শারীরবিদ্যা হোক।
ঘুম প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যের একটি অংশ
দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের অভাব নিম্নলিখিত রোগগুলির ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত:
● ইনসুলিন প্রতিরোধ
● টাইপ ২ ডায়াবেটিস
● হৃদরোগ
ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়। পুষ্টি ও শারীরিক কার্যকলাপের মতোই এটি স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য উপাদান।

